উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় অগ্রসর হতে ইচ্ছুক মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশ প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক বৃত্তি প্রদান করে। মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ে এ ধরনের বৃত্তি শিক্ষার্থীদের শুধু টিউশন ফি থেকে অব্যাহতি দেয় না, বরং জীবনযাত্রার ব্যয়ভার বহন করে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ তৈরি করে। এসব বৃত্তি মূলত সরকারি উদ্যোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক তহবিল এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে প্রদান করা হয়।
উত্তর আমেরিকা: যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা গবেষণা ও পিএইচডি পর্যায়ের বৃত্তির জন্য প্রসিদ্ধ। ফুলব্রাইট স্কলারশিপ যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম জনপ্রিয় প্রোগ্রাম, যা টিউশন, ভাতা ও বিমান ভাড়াসহ সব খরচ বহন করে। হার্ভার্ড, ইয়েল, এমআইটি’র মতো বিশ্ববিদ্যালয়গুলো প্রয়োজনভিত্তিক বা মেধাভিত্তিক পূর্ণ অর্থায়ন দেয়। কানাডায় ভ্যানিয়ার কানাডা গ্র্যাজুয়েট স্কলারশিপ এবং RA/TA ভিত্তিক সহায়তা বেশ পরিচিত।
ইউরোপ: এখানে বহুদেশীয় সহযোগিতা ও সরকারি উদ্যোগের মাধ্যমে শক্তিশালী বৃত্তি প্রোগ্রাম চালু রয়েছে। ইরাসমুস মুন্ডাস শিক্ষার্থীদের একাধিক দেশে পড়াশোনার সুযোগ দেয়। যুক্তরাজ্যের চিভেনিং ও কমনওয়েলথ স্কলারশিপ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। জার্মানির DAAD, ফ্রান্সের Eiffel Scholarship এবং সুইজারল্যান্ডের Swiss Excellence Scholarship বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
এশিয়া: এ অঞ্চলের দেশগুলোও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করছে। জাপানের MEXT, চীনের CSC, কোরিয়ার GKS এবং সিঙ্গাপুরের SINGA বৃত্তি গবেষণা ও উচ্চশিক্ষার জন্য সুপরিচিত।
আন্তর্জাতিক সংস্থা: ADB-Japan Scholarship, আগা খান ফাউন্ডেশন এবং ওয়ার্ল্ড ব্যাংক বৃত্তি উন্নয়নশীল দেশের শিক্ষার্থীদের মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ে সহায়তা করে।
প্রস্তুতি: সফল আবেদনের জন্য প্রয়োজন শক্তিশালী একাডেমিক ফলাফল, IELTS/TOEFL-এ ভালো স্কোর এবং গবেষণা বা নেতৃত্ব প্রদানের সক্ষমতা। আবেদনকারীদের উচিত অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে নিয়মিত নজর রাখা এবং যথাসময়ে সব নথি প্রস্তুত রাখা।
এ সকল বৃত্তি শুধু শিক্ষা নয়, বরং মেধাবী শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিযোগিতার দরজা উন্মুক্ত করে দেয়।