গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার টোকনগর দারুল হাদিস আলিম মাদ্রাসার চার শিক্ষকের সনদ জালের অভিযোগে তাদের এমপিও স্থগিত করেছিল মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। কিন্তু মাত্র চার মাসের ব্যবধানে ওই শিক্ষকদের সনদ সঠিক বলে এমপিও ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এমন সিদ্ধান্তে প্রশ্ন উঠেছে, কেন ফৌজদারি মামলা করা হয়নি। অভিযোগ আছে, আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে অভিযুক্তদের পক্ষে সুপারিশ করা হয়েছে।
মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এ. কে. এম ইফাজ উদ্দিন বলেন, ‘ভুয়া সনদ দেওয়ার চক্রান্তের শিকার ওই চার শিক্ষক। তাদের কাগজপত্র সম্পূর্ণ সঠিক।’ তবে কেন এমপিও স্থগিত হওয়ার পরপরই আবেদন করা হয়নি, তার কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
প্রথম যাচাই প্রতিবেদনে প্রভাষক নাজমুল আহসান, সহকারী মৌলভী নাজমুন নাহার, সহকারী শিক্ষক সানাউল্লাহ ও এবতেদায়ী শিক্ষক কে এম সবুর শেখের সনদ ভুয়া বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে ১৫ জুলাই নতুন প্রতিবেদনে নাজমুল আহসান ও সানাউল্লাহর সনদ ‘সঠিক’ হিসেবে দেখানো হয় এবং তাদের এমপিও ফেরতের সুপারিশ করা হয়। নতুন প্রতিবেদনে বাবা-মার নাম, রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর আগের প্রতিবেদনের সঙ্গে মেলেনি।
এনটিআরসিএর সহকারী পরিচালক ফিরোজ আহমেদ জানিয়েছেন, ‘শুনানির পর কাগজপত্র যাচাই করে সনদ সঠিক পাওয়া গেছে।’ তবে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা এই ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য মনে করছেন না। তার মতে, ইনডেক্স ও নিয়োগ তথ্য যাচাই করলে সব সত্য উদঘাটিত হবে।
মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আরিফুর রহমান মজুমদার এবং পরিদর্শক মো: আসাদুজ্জামান এমপিও ফেরতের সুপারিশের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। অভিযোগ রয়েছে, এ সুপারিশে মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের প্রভাব থাকতে পারে।
এ বিষয়ে এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, ‘এ ঘটনার পেছনে একটি চক্র রয়েছে, যারা আইন অনুযায়ী দায়িত্বে থাকবে এবং প্রয়োজনে মামলা করা হবে।’
সংক্ষিপ্তভাবে, চার শিক্ষকের সনদ যাচাই এবং এমপিও ফেরত প্রদানের ঘটনায় নেটিজেন ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহলে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।